বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের বোলিং পরামর্শক হিসেবে এক সপ্তাহের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন আকিব জাভেদ।
কাজ করেছেন এইচপি ও জাতীয় দলের পেসারদের সঙ্গে। গত শুক্রবার দেশে ফেরার
আগে মিরপুরের একাডেমি ভবনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার
কথা বললেন অনেক বিষয় নিয়েই—
* ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই ছিলেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের ছায়ায়। এ নিয়ে আপনার আক্ষেপ না থেকেই পারে না!আকিব জাভেদ: পরিবেশ, পরিস্থিতি কিংবা সময়টা যা-ই হোক বা যে যুগেই আসি না কেন, আমার ভূমিকা যা-ই থাকুক না কেন, এসব নিয়ে আক্ষেপ নেই। আপনি কত উইকেট পেলেন বা কত রান করলেন—এসব সব সময় আসল কথা নয়। আপনার কতটা ভালো লাগছে, কতটা ভালো সময় কাটছে, দলে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারছেন কি না—এসবই মূল কথা। আমার সময়টা কঠিন ছিল। তবে পাকিস্তানের সেরা দলটা দেখার সুযোগ হয়েছে আমার।
* এ রকম কি কখনো মনে হয়, যে রকম মূল্যায়ন আপনার হওয়া উচিত ছিল, সেটা হয়নি?আকিব: সে রকম কিছু নয়, ব্যাপারটা আসলে সুযোগ পাওয়ার। আমি সুযোগ কম পেয়েছি। যদি বিশ্বের সেরা তিন-চার বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান একটি দলে থাকে অবশ্যই কখনো কখনো সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে আরও কয়েক বছর খেলতে পারতাম, ম্যাচসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। কিছু কারণে সেটা হয়নি।
* পাকিস্তান সব সময়ই পেস আক্রমণে শক্তিশালী। এর কারণ কী?আকিব: পেস আক্রমণে পাকিস্তানের শক্তিশালী হওয়ার কিছু কারণ আছে। প্রথমেই বলব পরিবেশের কথা। আপনি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাস্ট বোলার পাবেন না। এটা আপনার সংস্কৃতির ব্যাপার। খোলা জায়গা থাকতে হবে, যেখানে শিশুরা গাছে চড়বে, সাঁতার কাটবে, দৌড়াদৌড়ি করবে। মুক্ত জীবনযাপনের পরিবেশ থাকতে হবে, যেটি অ্যাটলেটিসিজমকে উৎসাহিত করবে। এতে শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ বাড়ে। ফাস্ট বোলার হতে বন্য ভাবটা খুব জরুরি। ইমরানের পর থেকেই মূলত পাকিস্তানে ফাস্ট বোলিং শক্তিশালী ধারা শুরু হয়েছে।
* ঢাকায় এসে বলেছিলেন, রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজরাই এখন বাংলাদেশের উঠতি পেসারদের আদর্শ। কিন্তু পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় তারকা তো এখানে মাশরাফি...আকিব: আমি একটা ধারণার কথা বলেছিলাম। ধারণাটা হচ্ছে, যদি নিজেদের কোনো নায়ক থাকে, তবে তারাই পারে তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে। আমি কথাটা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতি নিয়ে বলছিলাম। মাশরাফি ১৩ (প্রায় ১৫) বছর ধরে খেলছে। তবে গত কিছুদিনে বাংলাদেশের পেস অগ্রগতিটা হচ্ছে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজকে ঘিরে। এরা তিনজন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে। মাশরাফি তার ভূমিকা পালন করছে। সে হয়তো এই তিন বোলারের আদর্শ। তবে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজ অনুপ্রাণিত করতে পারে লাখো তরুণকে।
* এইচপি ইউনিটের পেসারদের নিয়ে মূল্যায়ন কী?
* ক্যারিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই ছিলেন ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনিসের ছায়ায়। এ নিয়ে আপনার আক্ষেপ না থেকেই পারে না!আকিব জাভেদ: পরিবেশ, পরিস্থিতি কিংবা সময়টা যা-ই হোক বা যে যুগেই আসি না কেন, আমার ভূমিকা যা-ই থাকুক না কেন, এসব নিয়ে আক্ষেপ নেই। আপনি কত উইকেট পেলেন বা কত রান করলেন—এসব সব সময় আসল কথা নয়। আপনার কতটা ভালো লাগছে, কতটা ভালো সময় কাটছে, দলে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারছেন কি না—এসবই মূল কথা। আমার সময়টা কঠিন ছিল। তবে পাকিস্তানের সেরা দলটা দেখার সুযোগ হয়েছে আমার।
* এ রকম কি কখনো মনে হয়, যে রকম মূল্যায়ন আপনার হওয়া উচিত ছিল, সেটা হয়নি?আকিব: সে রকম কিছু নয়, ব্যাপারটা আসলে সুযোগ পাওয়ার। আমি সুযোগ কম পেয়েছি। যদি বিশ্বের সেরা তিন-চার বোলার কিংবা ব্যাটসম্যান একটি দলে থাকে অবশ্যই কখনো কখনো সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তবে আরও কয়েক বছর খেলতে পারতাম, ম্যাচসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। কিছু কারণে সেটা হয়নি।
* পাকিস্তান সব সময়ই পেস আক্রমণে শক্তিশালী। এর কারণ কী?আকিব: পেস আক্রমণে পাকিস্তানের শক্তিশালী হওয়ার কিছু কারণ আছে। প্রথমেই বলব পরিবেশের কথা। আপনি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাস্ট বোলার পাবেন না। এটা আপনার সংস্কৃতির ব্যাপার। খোলা জায়গা থাকতে হবে, যেখানে শিশুরা গাছে চড়বে, সাঁতার কাটবে, দৌড়াদৌড়ি করবে। মুক্ত জীবনযাপনের পরিবেশ থাকতে হবে, যেটি অ্যাটলেটিসিজমকে উৎসাহিত করবে। এতে শারীরিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ বাড়ে। ফাস্ট বোলার হতে বন্য ভাবটা খুব জরুরি। ইমরানের পর থেকেই মূলত পাকিস্তানে ফাস্ট বোলিং শক্তিশালী ধারা শুরু হয়েছে।
* ঢাকায় এসে বলেছিলেন, রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজরাই এখন বাংলাদেশের উঠতি পেসারদের আদর্শ। কিন্তু পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বড় তারকা তো এখানে মাশরাফি...আকিব: আমি একটা ধারণার কথা বলেছিলাম। ধারণাটা হচ্ছে, যদি নিজেদের কোনো নায়ক থাকে, তবে তারাই পারে তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে। আমি কথাটা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতি নিয়ে বলছিলাম। মাশরাফি ১৩ (প্রায় ১৫) বছর ধরে খেলছে। তবে গত কিছুদিনে বাংলাদেশের পেস অগ্রগতিটা হচ্ছে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজকে ঘিরে। এরা তিনজন বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে। মাশরাফি তার ভূমিকা পালন করছে। সে হয়তো এই তিন বোলারের আদর্শ। তবে রুবেল-তাসকিন-মুস্তাফিজ অনুপ্রাণিত করতে পারে লাখো তরুণকে।
* এইচপি ইউনিটের পেসারদের নিয়ে মূল্যায়ন কী?
আকিব: ফাস্ট বোলারদের উচ্চতা ও শক্তি
দুটিই দরকার। এটাতে আরও উন্নতি প্রয়োজন। বলছি না উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি
থাকতে হবে। আদর্শ উচ্চতা হচ্ছে ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি বা ৬ ফুট। এই উচ্চতার বোলার
বাংলাদেশে অনায়াসে পাওয়ার কথা। শুধু একটা ধারা তৈরি করতে হবে। এইচপির ১৭
জন ও জাতীয় দলের আটজন পেসারের সঙ্গে কাজ করেছি। লম্বা ছেলেটা...ইবাদত
(হোসেন চৌধুরী) ঘণ্টায় ১৩৮-১৩৯ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারে। তাকে
যদি ঠিকভাবে সহায়তা করা যায়, আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা যায় বাংলাদেশের বিরাট
সম্পদ হতে পারে ও।
* আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই চমকে দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাঁকে আপনার পরামর্শ কী?
আকিব: আমার মনে হয়, তার ফিটনেসের দিকে
নজর দেওয়া উচিত। এখনকার ক্রিকেটে চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো খুব কঠিন।
দ্রুত টি-টোয়েন্টি থেকে ওয়ানডে, ওয়ানডে থেকে টেস্টে মানিয়ে নিতে হয়। আমার
মতে, আপাতত সীমিত ওভারের ক্রিকেটেই খেলুক মুস্তাফিজ। নিয়মিত স্ট্রেংথ ও
কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে হবে। এমন প্রতিভা দ্রুত হারিয়ে ফেললে বিরাট ক্ষতি
হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের। আমার তো আশা, সে অন্তত ১০-১২ বছর খেলবে।
* সীমিত ওভারের ক্রিকেটে গত দুই বছরে বাংলাদেশের সাফল্যে বিরাট
ভূমিকা রেখেছে শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ। কোন দিকটা উন্নতি করতে পারলে
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বোলিং আরও শক্তিশালী হতে পারে?
আকিব: যে তিন বোলারের কথা বলেছি, এরা
আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলিংকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
তবে বাংলাদেশ ভালো মানের লেগ স্পিনারের অভাব আছে। যদি ওই তিন ফাস্ট
বোলারের সঙ্গে একজন ভালো লেগ স্পিনার যোগ হয়, বাংলাদেশ যেকোনো দলকেই
হারাতে পারবে।

0 comments: